মাসায়েলে কুরবাণী - কুরবানীর মাসায়েল | কুরবানীর 2018

কুরবানী করাঃ

সামর্থবান ব্যক্তির উপর কুরবানী করা সুন্নাতে মুআক্কাদা।
কুরবানী দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এমন ব্যক্তির জন্য কুরবানী না দেওয়া মাকরূহ। অনেক আলেম

আল্লাহর বাণীঃ

(فصل لربك وانحر)
আপনার প্রতিপালকের জন্য নামায আদায় করুন এবং
কুরবানী করুন এই আয়াতকে দলীল হিসাবে গ্রহণ করে কুরবানী দেওয়াকে ওয়াজিব বলেছেন। ইবনে
উমার (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাঃ) মদীনাতে দশ বছর অবস্থান করেছেন। তিনি প্রতি বছরই
কুরবানী করেছেন। (তিরমিজী-আহমাদ) কুরবানী নিজ হাতে করা উত্তম। নিজে করতে না পারলে
অন্যকে দিয়ে করা যেতে পারে। কুবানী যবাই করার সময় বিসমিল্লাহ আল্লাহ আকবার বলে যবাই
করবে। যবাই করার সময় কুরবানী আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার দু‘আ করা
মুস্তাহাব।

কুরবানীর পশু নির্বাচনঃ 

উট,গরু, ছাগল, দুম্বা-ভেড়া ও মহিষ দিয়ে কুরবানী করা বৈধ। তবে কুরবানীর পশুর ক্ষেত্রে
শর্ত হলো তা সকল প্রকার দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত হতে হবে। ইমাম বুখারী ও মুসলিম আনাস
(রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, রাসূল (সাঃ) শিং বিশিষ্ট দু‘টি কাল মুখ ও কাল পাঁ বিশিষ্ট
ভেড়া দিয়ে কুরবানী করেছেন। (বুখারী) চার প্রকার পশু দিয়ে কুরবানী করা সিদ্ধ নয়।
সুস্পষ্ট অন্ধ, সুস্পষ্ট রোগ বিশিষ্ট, সুস্পষ্ট খোঁড়া এবং একেবারে দুর্বল ও
গোশতহীন যা যবেহ করার স্থান পর্যন্ত হেটে যেতে অক্ষম। (তিরমিজী)
একটি ছাগল বা
দুম্বা এক পরিবারের পক্ষ থেকে যথেষ্ঠ হবে। যদিও পরিবারের লোক সংখ্যা অনেক হয়ে
থাকে।
একটি উটে দশজন এবং একটি গরুতে সাত জন পর্যন্ত শরীক হয়ে কুরবানী করা বৈধ।
এব্যাপারে সহীহ হাদীস রয়েছে। তবে ছাগল-খাঁসীতে শরীক হওয়া জায়েয নাই।
আমাদের দেশে
কুরবানীর গরুর সাথে ভাগে আকীকা দেওয়ার নিয়ম প্রচলিত আছে। হাদীসে এর কোন প্রমাণ
পাওয়া যায়না। সুতরাং ইহা আল্লাহর রাস্তায় কুরবানী করার মত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত
নিয়ে খেলা-ধুলার শামীল।


কুরবানীর পশুর বয়সঃ 

কুরবানীর পশুর জন্য শর্ত হল, তার বয়স পূর্ণ হতে হবে। ভেড়া-দুম্বার ক্ষেত্রে
ছয় মাস পূর্ণ হতে হবে। (নাসাঈ) ছাগল-খাসীর বয়স এক বছরের কম হলে তার দ্বারা কুরবানী
চলবেনা। গরুর বয়স দুই বছর পূর্ণ হতে হবে। উটের বয়স পাঁচ বছর পূর্ণ হতে হবে।
(মুসলিম)

কুরবানী করার সময়ঃ 

ঈদের নামাযের পর থেকেই কুরবানী করার সময় শুরু হয়। ঈদের নামাযের পূর্বে যবাই করলে তা কুরবানী হিসাবে
গ্রহণযোগ্য হবেনা। কেহ যদি নামাযের আগেই যবাই করে ফেলে, তবে তাকে নামাযের পর
তদস্থলে আর একটি পশু যবাই করতে হবে। কুরবানী করার শেষ সময় হলো জিল হজ্জ মাসের
১৩তারিখ সূর্য অস্ত যাওয়ার পুর্ব পর্যন্ত। অর্থাৎ ঈদের দিন এবং ঈদের পর তিন দিন।
পরের তিন দিনকে হাদীসের পরিভাষায় আইয়ামে তাশরীক বলা হয়। তাশরীক অর্থ সুর্যের আলোতে
শুকানো। সাহাবাগণ এই দিনগুলিতে কুরবানীর গোশত কেটে টুকরো টুকরো করে রৌদ্রে শুকাতেন
বলে এই দিনগুলোকে আইয়ামে তাশরীক বলা হয়।

কুরবানীর গোশত খাওয়াঃ

কুরবানীর গোশত থেকে অল্প হলেও খাওয়া সুন্নাত। রাসূল (সাঃ)
মদীনাতে অভাবী লোক থাকার কারণে কুরবানীর গোশত তিন দিনের বেশী রাখতে নিষেধ করেছিলেন।
পরবর্তীতে যখন মুসলমানদের অবস্থার পরিবর্তন হল, তখন রাসূল (সাঃ) কুরবানীর গোশত
যতদিন ইচ্ছা রেখে দেওয়ার অনুমতি প্রদান করেছেন।


কুরবানী দাতা যা থেকে বিরত থাকবেঃ 

যে ব্যক্তি কুরবানী দিতে উচ্ছা করবে, তার জন্য জিল হজ্জ মাসের চাঁদ উঠার পর থেকে কুরবানীর করার পূর্ব পর্যন্ত মাথার চুল হাত বা পায়ের নক কাটা সম্পূর্ণ নিষেধ। উম্মে সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূল (সাঃ)
বলেছেন, যখন তোমরা জিল হজ্জ মাসের চাঁদ দেখবে এবং তোমাদের কেহ কুরবানী করার ইচ্ছা
পোষণ করবে, সে যেন কুরবানীর পশু যবাই করার পূর্বে তার মাথার চুল বা হাত-পায়ের নখ
কাটা থেকে বিরত থাকে। (মুসলিম-আহমাদ) এই বিধান শুধুমাত্র পরিবারের যে কুরবানী করবে,
তার জন্য স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্য এ বিধানের অন্তর্ভুক্ত
নয়।

কুরবানীর গোশত বন্টন করাঃ 

কুরবানী দাতার জন্য সুন্নাত হলো নিজে পরিবারসহ কুরবানীর গোশত খাবে, প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনকে
উপহার দিবে এবং গরীব-মিসকীনকে ছাদকা করবে। আল্লাহ তা‘য়ালা বলেন, “তোমরা উহার গোশত
খাও এবং ফকীর ও অভাবগ্রস্থদেরকে খেতে দাও”। (সূরা হজ্জঃ২৮)
অনেক উলামায়ে দ্বীন
কুরবানীর গোশত তিন ভাগে বন্টন করে একভাগ নিজে খাওয়া, একভাগ ধনী আত্মীয়দেরকে হাদীয়া
দেওয়া এবং আর একভাগ ফকীর-মিসকীনদেরকে দান করা পছন্দ করতেন। তবে এধরণের বন্টন করা
ওয়াজিব নয়।


মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করাঃ

মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা তিন ধরণের হতে
পারে।
(১) নিজের কুরবানীতে পরিবারের মৃত ও জীবিত ব্যক্তিদেরকে নিয়তের
মাধ্যমে শামীল করা। ইহা বৈধ। নবী (সাঃ) থেকে এধরণের কুরবানী করার কথা প্রমাণিত আছে।
এভাবে দেওয়া কুরবানীর গোশত পরিবারের সবাই খেতে পারবে।
(২) মৃত ব্যক্তি
জীবিত থাকা অবস্থায় তাঁর পক্ষ থেকে কুরবানী করার ওসীয়ত করে থাকলে ওসীয়ত বাস্তবায়ন
করার জন্য মৃত ব্যক্তির তরফ থেকে কুরবানী করা জায়েয আছে।
(৩) মৃত
ব্যক্তির জন্য আলাদাভাবে কুরবানী করা। এব্যাপারে দ্যিানগণ মতবিরোধ করেছেন। কারণ
এধরণের কুরবানী করার কথা হাদীসের মাধ্যমে সরাসরি প্রমাণিত নাই। আল্লামা ইবনু
উসাইমীন ছাদকাহ স্বরূপ মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা বৈধ বলে মত প্রকাশ
করেছেন। এভাবে কুরবানী করলে গোশত দরিদ্রদের মাঝে ছাদকাহ করে দিতে হবে। নিজে খাওয়া
যাবেনা।

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা এই যে তিনি যেন আমাদের সমস্ত সৎ আমল কবুল করেন
এবং আমাদেরকে সকল আমল সঠিকভাবে করার তাউফিক দান করেন। আমীন!

Tags: #eid ul adha in bangladesh  #eid ul adha #bangladesh eid day #eid ul adha in bangladesh #eid ul adha 2018 in bangladesh #eid ul fitr 2018 in bangladesh #eid ul adha 2018 date in bangladesh #মাসায়েলে কুরবাণী - কুরবানীর মাসায়েল | কুরবানীর 2018

Source: https://bit.ly/2L4jz5D

0 comments:

Post a Comment